রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 79

ঘুরে ফিরে লাভ নেই সময় শেষ : সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

 

বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঘুরে ফিরে লাভ নেই, সময় শেষ হয়ে গেছে। দয়া করে কেটে পড়েন। জনগণ আপনাদের টেনে নামবে।

 

শনিবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিউটশন মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে রাষ্ট্রকে একটা নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত করা। সেই জন্য সরকার আগের ক্লাস টু-থ্রিতে যে প্রবন্ধ পাঠ করা হতো সেগুলো পরিবর্তন করে ফেলেছে। জ্ঞানী দেশপ্রেমিক মানুষগুলোর জীবনীগুলোকে বাতিল করে অন্যদেশের কালচার ঢুকিয়ে দিয়েছে।

আমরা কখনো শুনিনি শিক্ষামন্ত্রী চুরি করে- এমন সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জমির বিষয়ে অভিযোগ করে ডিসি বলেছেন, ৩৬৫ কোটি টাকা শিক্ষামন্ত্রীর আত্মীয়রা লোপাট করেছে। নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, সরকারি লোক তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর মদদে প্রশয়ে তার লোকেরা ৬০০ কোটি টাকার বালু লোপাট করেছে। এদের উদ্দেশ্য একটাই শিক্ষাকে পঙ্গু করা এবং আমরা জাতি হিসেবে যেন নির্ভরশীল হতে না পারি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি জাতির শিক্ষাব্যবস্থা যদি পঙ্গু করে দেয়া যায়, তবে সেই জাতিকেই পঙ্গু করে দেয়া যায়। আজ সেই দিকটা খেয়াল করুন, কেন হচ্ছে? রাষ্ট্রের যে কাঠামো সেই কাঠামোই তো এই সরকার পরিবর্তন করেছে। এই সরকারের তো কোনো জবাবদিহিতা নেই। পার্লামেন্ট একটা আছে। সেটা তোষামোদীর কারখানা। যারা অনির্বাচিত তারা গেছেন ওখানে, একটা কোটার মাধ্যমে। ওখানে গিয়ে তাদের একটাই কাজ, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন, আর তারা বলবে, আহ, বেশ, বেশ, বেশ।

‘দেশের সাধারণ মানুষের একটা দিন কথা বলার সুযোগ থাকে, সেটা হলো ভোটের দিন। কিন্তু এই সরকার সেটাকেও নষ্ট করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোট দেয়ার অধিকারটাই শেষ করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ভিসানীতি দিয়েছে যারা ভোট চুরি করেছে, খুন করেছে, গুম করেছে, লুটপাট ও দুর্নীতির করেছে, দলীয়ভাবে বিচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে। সবাই এখন আতঙ্কিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আতংকের ছাপ দেখি আওয়ামী লীগের সভাপতির মাঝে।

সরকারকে ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঘুরে ফিরে লাভ নেই, সময় শেষ হয়ে গেছে। দয়া করে কেটে পড়েন। জনগণ আপনাদের টেনে নামবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঈন খান বলেন, আমাদের সংবিধানের যে পাঁচটি মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষা। পরিতাপের বিষয় স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও শিক্ষকদের অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করতে হচ্ছে। এটা শুধু সরকার নয় আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। কেন আমাদের সংবিধানের প্রদত্ত মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। এ প্রশ্ন আজ করতে হবে। শিক্ষার অধিকার অর্জনের জন্য এবং সেই অধিকার আদায়ের জন্য যদি সংবিধান পরিবর্তন করা প্রয়োজন মনে করি আমরা সেটা করব। এর মধ্যে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, জার্মানির সবচেয়ে সম্মানিত পেশা হচ্ছে শিক্ষকতা এবং শিক্ষকদের সকল দায়িত্ব সরকার নিজে গ্রহণ করেছে। আজ জার্মানির এত উন্নয়নের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষা। যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে বিশ্বের কোনো দেশ শক্তিশালী হয় না। শিক্ষা দিয়ে শক্তিশালী হয়। আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ ও শক্তিশালী হওয়ার পেছনে রয়েছে শিক্ষা। বিশ্বের সেরা ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯০০টি বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার।

শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সেলিম ভুইঁয়ার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মুগিস উদ্দিন মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

মিরসরাইয়ে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও ২০ শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা

মিরসরাই প্রতিনিধি
শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নেওয়া এমন ২০ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। শনিবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার কবির মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে মিরসরাই সদর ক্লাস্টারের উদ্যোগে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আরিফুল হককে বদলীজনিত কারণে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক। কবির মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সংবর্ধনা উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রধান শিক্ষক মফিজুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ইউ.আর.সি ইন্সট্রাক্টর শহীদুল আমিন ভূঁইয়া, বিদায়ী সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল হক, মিরসরাই উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বশির আহাম্মদ সরকার, মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, মো. রেজাউল ইসলাম। বিদায়ী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এটিএম রেজাউল হক। আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক নিজামী, প্রধান শিক্ষক তপন ধুম, মাঈন উদ্দিন, বিভূতি রঞ্জন চৌধুরী, সহকারি শিক্ষক নুরুল গনি, নাঈম উদ্দিন, আশরাফুল আরেফিন, ইকবাল হোসেন, রেজাউল করিম। বিদায়ী শিক্ষকদের ফুল, ক্রেস্ট, মানপত্র, ছাতা, জায়নামাজ, হিন্দু শিক্ষকদের গীতা ও মগ উপহার দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষক আবু তৈয়ব বলেন, আমি সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি। শেষ বয়সে এসে অবসর নিই। আমার ছাত্ররা যখন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুনি, তখন অনেক ভালো লাগে। এখানে শিক্ষকতার স¦ার্থকতা। আজ শিক্ষকরা যে সন্মান, সংবর্ধনা দিয়েছে তা সারা জীবন মনে রাখবো। আমি তাদের এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক মফিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মিরসরাই সদর ক্লাস্টারের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নেওয়া ২০জন শিক্ষক ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান স্যারের বদলীজনিত কারণে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছি। আমরাও এক সময় এই পেশা থেকে বিদায় নেবো। আগামী প্রজন্ম অনুকরণ করে হয়তো আমাদের জন্য এমন উদ্যোগে নেবেন।

 

স্কাস ভর করে বিএনপির রোডমার্চে যুবদল কর্মী নাজিম

 

মিরসরাই প্রতিনধি

সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে স্বাভাবিক চলাচল করতে পারেন না নাজিম উদ্দিন সাগর। সে যুবদলের রাজনীতি করার অপরাধে হামলার শিকার হয়েছেন। প্রায় চার মাস শয্যাশায়ী থাকার পর এখন স্কাস ভরে করে কিছুটা চলাফেরা করেন। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চে অংশ নিয়েছেন তিনি। নাজিম মিরসরাই উপজেলার ৭ নং কাটাছরা ইউনিয়নের বামনসুন্দর গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের পুত্র।

নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি যুবদলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী। রাজনীতি করার অপরাধে চার মাস আগে বামনসুন্দর বাজারে আমার উপর হামলা করে সরকারি দলের লোকজন। হামলার এক পর্যায়ে আমি মারা গেছি ভেবে রেখে চলে যায়। এরপর উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। কেউ আমাকে দেখে বাঁচবো মনে করেনি। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে আছি। তবে এখনো চলাফেরা করতে পারিনা। স্কাস এর উভর ভর করে চলাফেরা করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা, মুক্তি দাবী ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে দলের কেন্দ্র ঘোষিত রোডমার্চে অংশ না নিয়ে ঘরে বসতে থাকতে পারিনি। তাই শত কষ্ট হলেও আন্দোলনে শামিল হয়েছি।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদ চৌধুরী বলেন, নাজিম দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। সে দলের যে কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে থাকে। হামলায় পঙ্গু হওয়ার পরও ঘরে বসে থাকতে পারেনি। স্কাস ভর করে রোডমার্চের কর্মসূচিত। ছুটে এসেছেন। জাহিদ আরো বলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন। তিনি নিয়মিত নাজিমের চিকিৎসার জন্য সব করছেন।

মিরসরাইয়ে বিএনপির বিশাল জমায়েত অনুষ্ঠিত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সময় থাকতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দ্রুত পদত্যাগ করুন। ফ্যাসিস্ট সরকারের অধিনে কেউ নির্বাচন করবেনা। আওয়ামী লীগ দেশের জনগনের অধিকার হরণ করেছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা ১৪ ও ১৮ সালে দুটি নির্বাচন দেখেছি, এবারের নির্বাচন আগের মত করতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া সবাই মিলে সীদ্ধান্ত নিয়েছে এ সরকারের অধিনে আর কোন নির্বাচন নয়।’ কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে বিএনপির মার্চে মিরসরাইয়ে পথসভায় বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বার বার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার আর তা হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, অহিংস আন্দোলন করছি। আমরা বিএনপির জন্য ভোট করতে চায় না, আমরা জনগনের জন্য ভোট করতে চাই। জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। আমাদের নেত্রী খুব অসুস্থ্য তাকে সুচিকিৎসা করতে দিচ্ছে না। আমরা আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার আটকে রেখেছে। তাকে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত করে তাঁকে বাঁচাতে হবে। তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। তাঁকেও মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি করে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য দরকার দুর্বার আন্দোলন।’
এসময় মিরসরাইয়ের জনগণকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মিরসরাইয়ের বীর জনগণ। আপনারা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়ের পক্ষে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সংগ্রাাম করে চলেছেন। আগামীতেও এ সরকারের সকল অন্যায় জলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪৫ লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমন কোন নেতা-কর্মী নেই, যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়নি। মামলা-হামলা দিয়ে লাভ হবে না সময় ফুরিয়ে গেছে। আমরা এবার কারো কথা শুনতে চায় না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেব।’

এর আগে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আজকে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের অভিমুখে তারুণ্যের রোড মার্চ ঘিরে জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে। সরকারের এখন বিদেশেও কেউ নাই, দেশেও কেউ নেই। এখন এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হবে। ভোট চোরের জায়গা এ দেশে হবেনা।’

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা থেকে পথসভাস্থলে যোগ দিতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নেতা-কর্মীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। দুপুরের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামুখী লেনে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করে। এসময় যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চে আসার এক ঘন্ট আগে থেকে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকামুখী লেনে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল করে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর মিরসরাইয়ে বড় শোড়াউন করেছে বিএনপি। এতে করে খুশী নেতা-কর্মীরা।

তারেকুল ইসলাম নামে বিএনপির এক নেতা বলেন, অনেক দিন পর মিরসরাইয়ে বিএনপি বড় ধরনের সভা করলো। এতে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবে। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য এ কর্মসূচি নিয়ামক হিসবে কাজ করবে।

উপজেলার ইছাখালী থেকে আসা বিএনপির কর্মী শামসুল আলম (৬০) বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর মিরসরাই সদরে বড় জমায়েত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কারণে এতদিন কোন কর্মসূচি পালন করা যায়নি। আমি অসুস্থ্য শরীর নিয়ে খালেদা জিয়া মুক্তির দাবীতে চলে এসেছি।

মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপত্বে ও সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহাজাহান, ব্যরিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহম্মদ, কেন্দ্রীয় সাইফ মাহমুদ জুয়েল, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্ণেল (অব:) আজিম উল্লাহ বাহার, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, , মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুর রহমান চৌধুরী, মিরসরাই পৌর বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন, সদস্য সচিব জাহিদ হুসাইন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আফছার জুয়েল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ওমর শরীফ, সদস্য সচিব শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন, সহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিত থাকায় উপহার পেলেন মারুফের ৩১৭ শিক্ষার্থী

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাই উপজেলার মারুফ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আগস্ট মাসের শতভাগ উপস্থিতির জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন ৩১৭জন শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পুরো মাস উপস্থিত থাকায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ( ৩ অক্টোবর) ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। এসময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীর শতভাগ পাশ নিশ্চিত করা,শৃঙ্খলা মেনে চলা,ও প্রতিযোগী মনোভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে মারুফ স্কুল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশসংনীয়। পুরো মাস শতভাগ উপস্থিত থাকার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রায় এক বছর ধরে পুরস্কৃত করে আসছে বিদ্যালয়টি।

 

আইনের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল

 

 

বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর সমস্ত দায় দায়িত্ব সরকার নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, ‘আইনের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই, তাকে বিদেশে চিকিৎসা না দিতে গেলে পরিণতি ভালো হবে না।”

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চেয়াপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বা অসুস্থ রেখে, কোন শর্তের বিনিময়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পরিষ্কার কথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না, কোনো শর্ত বা আপসের প্রশ্নেই আসে না।

১/১১ সরকারের সময়ে জরুরি আইনের মধ্যেও শেখ হাসিনা একজন ওয়ারেন্টের আসামি হিসেবেও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছে- এখন তারা খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আইনের ভুল ব্যাখ্যা করছে বলেও মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করব, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আন্দোলন করব, এরপরও যদি সরকার বাধা দেয়, তাহলেও আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

 

মিরসরাইয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ৭ শত শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

মিরসরাই প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে রাবেয়া খাতুন নূরানী তালিমুল কোরআন এবতেদায়ী মাদ্রাসা, এতিমখানা, হেফজ বিভাগ ও শাহ কালা (রহঃ) প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আলোচনা সভা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শাহ কালা (রহঃ) প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ও কাউছার আহমদ ফারদিনের যৌথ সঞ্চালনায় এবং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিম মাষ্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান, জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল হাসান, ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মালুম, ৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাঈন উদ্দিন, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সমাজকর্মী রাফসান জামি প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন বলেন, ‘সবাই ঈদে মিলাদুন্নবী ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালন করে। কিন্তু জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার তার ব্যতিক্রম। তিনি ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।’
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, আমার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে করোনাকালে হাজার হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়া এযাবত ১৪ হাজার গরীব মেয়ের বিয়েতে সহযোগিতা এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছি। আমার ব্যবসার লভ্যাংশের একটি অংশ আমি মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদে প্রদান করে থাকি। তা দিয়েই সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে থাকে।
এসময় তিনি রাবেয়া খাতুন নুরানী তালিমুল কোরআন এবতেদায়ী মাদ্রাসা, এতিমখানা, হেফজ বিভাগ ও শাহ কালা (রহঃ) প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শীঘ্রই ৩ তলা ভবন নির্মাণের উদ্বোধন এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি বাস প্রদানের ঘোষণা দেন। আলোচনা সভা শেষে মকবুল আহমদ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে ১ম শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত ৭ শত শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। গত ১৪ বছর যাবত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচী শুরুর পর থেকে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। আমাদের এই কার্য্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবো ইনশাল্লাহ।
সবশেষে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

৪১ বছর শিক্ষকতা শেষে অবসরে মীরা রাণী

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

মিরসরাই অঞ্চলের সফল একজন শিক্ষক মীরা রাণী ভৌমিক। সহকর্মীদের বন্ধুখ্যাত যুগপৎ শ্রদ্ধার পাত্র মীরা রাণী ভৌমিক মিঠাছড়া সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৪১ বছর সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সোমবার (২ অক্টোবর) শিক্ষকতা জীবনের অবসর উপলক্ষে স্থানীয় মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনাতায়নে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে ছিলেন মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম ফজলুল হক, মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিন, মিঠাছড়া বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ দিদার, মিঠাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম, মিঠাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসন মিঠু প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মিঠাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল করিম।
জানা যায়, মীরা রাণী ভৌমিক ১৯৮২ সালের ২৯ জানুয়ারি উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বদলী হয়ে ১৯৮২ সালের ৩০ মে মিঠাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৪১ বছরের শিক্ষককতা জীবনের ইতি টেনে গত ২৫ জুন ২০২৩ মিঠাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান তিনি। শিক্ষকতা জীবনে তাঁর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আজ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফলতার সাক্ষর রেখেছেন।
একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৪১ বছরের কর্মজীবনের শেষ দিন বিদায় বেলায় সকলের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অফিস সহকারী সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শিক্ষার্থীদের একবার একেকজনের মাথায় বুলিয়ে দিচ্ছেন শান্তনার হাত। যে হাতের নিভৃত ভাষা ছিল ‘আমি আছি তোদের হৃদয়ে তোদের শ্রদ্ধায় তোদের ভালোবাসায়’।
বিদায়ী সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মীরা রাণী ভৌমিক, ‘কেবল পুথিঁগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উৎকর্ষতা বিকাশের মাধ্যমে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেকসই হয়ে থাকে। এই বিদায় আমাকে বাকরুদ্ধ করেছে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকদের আন্তরিকতা আর অশ্রুসজল চোখে’।

সবাইকে জেগে উঠার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

 

রংপুর অঞ্চলের এক কৃষকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোথায় আছেন বাহে সবাই? জেগে ওঠেন। জেগে উঠার মধ্যে দিয়ে এই সরকারকে পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

 

সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে হওয়া এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একদফা দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ সারা দেশে মানুষ ক্ষোভ ফেটে পড়েছে। কারণ এই অবোধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রেখেছে। তার মুক্তির বিষয়ে ভূল ব্যাখ্যা করে যাচ্ছে সরকার। এরা কাপুরুষ। এরা জানে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি হয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হলে তাদের ক্ষমতার মসনদ ভেঙে পড়বে।

দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জানিয়ে বলেন, তারা তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। বরং তারা পাকিস্তানের সরকারের ভাতা খেয়েছিল।

সরকার ২৫ হাজার কোটি টাকা লুট করতে সহযোগিতা করে আর ২৫ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে তারা একজন কৃষককে কোমরে দড়ি বেঁধে ধরে নিয়ে যায় এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা একটা লুটেরাদের সরকার। এরা লুট করে টাকা পাচার করে কানাডায় বেগমপাড়া বানিয়েছে।

এখন কৃষকদের পক্ষ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা বলেছি, কৃষকদের ভর্তুকি দিতে হবে। কিন্তু তারা সব জায়গায় ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। শ্রমিকরা তার নায্যমূল্য পায় না। তারা কাউকে চাকরি দেয় না। চাকরি নিতে ২০ লাখ দিতে হয়। এ সময় সমাবেশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ করে বলেন, আমার তো মনে হয়, কারো ২০ লাখ টাকার নিচে চাকরি হয়নি!

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নানা অজুহাত দেখাচ্ছে সরকার, যখন তিনি ( প্রধানমন্ত্রী) কানের চিকিৎসা নিয়েছেন, তখন কি কোনো অজুহাত ছিল? এরা বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ হোক চায় না। সব কিছু দখল করে রেখেছ। তারা কোনো বিরোধী দল চায় না। তারা সব নিজেদের মত করে লুটে নিচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুনেছি শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় তার লোকেরা ৬ হাজার কোটি টাকার বালু খেয়ে ফেলেছে। কি আশ্চর্য। শিক্ষার অবস্থা!

সরকারের প্রতি কুটুক্তি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আগে বলত ২০ টাকার তেল খেয়ে স্বর্গে যাবো গো। এখন বলতে হয় আমরা কি উড়াল সেতু, টার্মিনাল খেয়ে স্বর্গে যাবো গো? এ দেশের মানুষ তার সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে বাঁচতে চায়। তারা দুর্নীতির উন্নয়ন চায় না।

আজ তাদের গাঁয়ে আগুন লেগেছে, তারা সব কূটনৈতিক নন্স ভুলে পিটার ডি হাসকে নিয়ে যা তা বলছে, কিছু টেলিভিশন তার পক্ষ নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে। এরা কি ভুলে গেছে? দেশের কত মানুষ ও সন্তান সেখানে কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে।

একটি খবর শুনেন, এখন নাকি রেমিটেন্স আসা কমে গেছে। কারণ, যারা কষ্ট করে টাকা কামায় তারা এদেশে টাকা পাঠানোয় নিরাপদ মনে করছে না।

এ সময় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জারিফ তুহিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা ফরহাদ হালিম ডোনার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ সিদ্ধান্ত : খালেদা জিয়ার আইনজীবী

 

বিদেশে চিকিৎসা নিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাইয়ের করা আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সাড়া না দেয়াকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

রোববার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে রোববার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আইনের ৪০১ ধারায় কোনো দরখাস্ত যদি একবার নিষ্পত্তি করা হয়, ওই দরখাস্ত পুনঃবিবেচনা করার কোনো অবকাশ আর আইনে থাকে না। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আজকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে দেশে আইনের শাসন নেই। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে ভয়ঙ্কর তামাশা করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় স্পষ্ঠভাবে বলা আছে সরকার চাইলেই তাকে মুক্তি দিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও দেশ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করানোর নজির আছে। কিন্তু আমরা দেখলাম রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

এ সিদ্ধান্তকে জাতির প্রতি একটি নিকৃষ্টতম প্রতারণা উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, ‘আইনমন্ত্রী পাবলিক স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছিলেন যে যদি খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়, সেটা সুবিবেচনা করা হবে। তার এই পাবলিক স্টেটমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনটি আইনগতভাবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলাফল আমরা আজকের এ সিদ্ধান্তের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’