রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনে ১০ মাস পর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলো মিরসরাইয়ের ৪জনসহ ৫ বাংলাদেশী

প্রকাশিত :

spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হাত থেকে ১০ মাসের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন মিরসরাইয়ের ৪জন সহ পাঁচ নাবিক। সরকার তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। রবিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় বাংলাদেশ বিমান যোগে তাঁরা ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। এরা হলেন উপজেলার ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ইছাখালী গ্রামের চুনিমিঝির টেক এলাকার নুর মোহাম্মদের পুত্র আলা উদ্দিন (৩৭), একই ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকার নুরুল আবছারের পুত্র মোঃ আলমগীর (৩৪), ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র মোঃ রহিম উদ্দিন ও একই ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের এবায়েত উল্লার পুত্র মোহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়া রাউজনের আবু তৈয়ব। তাঁরা সবাই ওমানের মাছিরা নামের একটি জাহাজ কোম্পানিতে কাজ করতেন। সৌদি আরবে নির্মাণকাজের জন্য যেতে তাঁরা ওমান থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করেছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, যাত্রাপথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে এই নাবিকেরা লোহিত সাগরে একটি জাহাজডুবির খবর পান। জাহাজটির নাবিকদের উদ্ধারে ২০ জন নাবিক (বিদ্রোহীদের হাতে আটকে পড়া) ইয়েমেনের উপকূলে নোঙর করেন। পরে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল লোক ২০ নাবিককে রাজধানী সানায় নিয়ে যান। পরে জানান, তাঁরা হুতি বিদ্রোহী।
ফিরে আসা নাবিক মোঃ আলা উদ্দিন জানান, তাঁরা ৪ জন ফটিকছড়ির ১জন প্রায় ৮ থেকে ১২ বছর ধরে ওমানে একটি জাহাজ কোম্পানীতে চাকুরী করতেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই কোম্পানীর ৩টি জাহাজ যোগে ৫ বাংলাদেশী, ১৪ ভারতীয় ও ১জন মিশরীয় নাগরিক সহ কোম্পানীর নির্মাণ কাজে সৌদী আরব যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে ১২ ফেব্রুয়ারি ইয়েমেনের বাবলমন্ডল এলাকায় তাঁরা ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় তাদের বহন করা ডানাচিষ নামক জাহাজটি ডুবে যায়। তাঁরা তাৎক্ষনিক সে জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। এসময় হটাৎ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গ্রুপ হুদির লোকজন কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে কয়েশ রাউন্ড গুলি চালিয়ে দুই জাহাজে থাকা ২০জনকে অপহরণ করে। পরবর্তিতে আল রাইয়া ও ফরিদা থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে আমাদের গাড়ি করে ১৪শ কিলোমিটার দুরে নিয়ে সানাইয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে রাখে। এসময় আমাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন টাকা পয়সা সব ছিনিয়ে নেয়। এরপর থেকে আমাদের ওই হোটেলে বন্দি করে রাখে। এভাবে প্রায় ৩ মাস চলে গেছে। ২৪ ঘন্টায় শুধু এক বোতল পানি আর বাচালিয়া (ইয়েমেনি খাবার) দেয়। আমাদের না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে।

https://fb.watch/2XWYmSZfIY/
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলমগীর জানান, প্রথম কয়েক মাস আমরা জাহাজের মালিকের সাথে যোগাযোগ করার অনেক চেষ্টার করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে কোম্পানীর মালিকের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের উদ্ধার করে বলি। হুদি বিদ্রোহী গ্রপের সদস্য মালিকের সাথে যোগাযোগ করে ১০ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবী করে। মালিক তাদের ২০ হাজার ডলার দেয়। এরপর থেকে মালিক আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতের সাথে যোগাযোগ করেছি কয়েকবার। কিন্তু তিনি আমাদের কোন ধরনের সহযোগীতা করেন নি। পরে ওমান সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি এয়াছিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করেছি। এভাবে আরো কয়েক মাস কেটে গেছে। কিন্তু বন্দি জীবন থেকে কিছুতেই মুক্তি মিলছে না। সেপ্টেম্বর মাসে আমাদের ইয়েমেনের আদালতে তোলা হয়। আদালতের মাধ্যমে আমরা ছাড়া পেয়েছি। তবে ইয়েমেনে বাংলাদেশী দূতাবাস না থাকায় কিছুতেই দেশে ফিরতে পারছি না। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়, কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাস, জর্ডান দূতাবাসের সহযোগীতায় ১৮ নভেম্বর হোটেল থেকে মুক্তি পেয়েছি। এরপর আমাদের ইয়েমেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর ইয়েমেনের আডান নামক শহরে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর ৯ জানুয়ারি ইয়েমেন থেকে যেবতি। যেবতি থেকে দুবাই, দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসে পৌছায়।
ভুক্তভোগী রহিম উদ্দিন বলেন, আমরা প্রথমে দেশে ফিরে আসার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতায় দীর্ঘ ১০ মাস বন্দি জীবন শেষে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের কাছে ফিরতে পেরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের কোম্পানীর মালিক আমাদের কোন খবর রাখেনি। অর্ধহারে, অনাহারে আমাদের দিন কেটেছে। আমাদের প্রায় এক বছরের বেতন বকেয়া রয়েছে। আমরা পররাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে আমাদের পাওয়া বেতন দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
রহিম উদ্দিনের মামা মোঃ নুর হোসেন বলেন, আমার ভাগিনা সহ সবাইকে নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম। কিভাবে? কখন? তাঁরা দেশে ফিরবে এনিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে সরকারের সহযোগীতায় তাঁরা দেশে ফিরেছে।
এদিকে মিরসরাইয়ের ৪ জন জিম্মিদশা থেকে বাড়িতে ফিরে আসায় পরিবারের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই ০১৮১৫৫০০৭০৫।

সর্বশেষ

প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে বিদায়, দোয়া মাহফিল ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি মিরসরাই উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি...

মিরসরাইয়ে কৃষক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের দেশ বিরোধী কর্মকান্ড ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত...

বামনসুন্দর ফকির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সমাজকর্মী শরফু উদ্দীন

  নিজস্ব প্রতিনিধি চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বামনসুন্দর ফকির আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি...

হাইতকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জামসেদ আলম

  মিরসরাই প্রতিনিধি চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড হাইতকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন...

আরও পড়ুন

মিরসরাইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত এমপি নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মিরসরাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে নবনির্বাচিত সংসদ সংসদ নুরুল আমিনকে সংবর্ধনা, ইফতার ও...

মিরসরাইয়ে মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন সিআইপি’র সৌজন্যে ১ হাজার ব্যক্তির মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রোকন্দীপুর উদ্যোগে ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়নের...

মিরসরাই উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

  মিরসরাই প্রতিনিধি মিরসরাই উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার ও...