মিরসরাই প্রতিনিধি
রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম কোম্পানির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে মিরসরাইয়ের জনগণ। গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে সুপেয় পানি তীব্র সংকটে পড়া এলাকাবাসীর সঙ্গে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও। বারইয়ারহাট পৌরসভার আয়োজনে মানবন্ধন থেকে বিএসআরএমকে হুশিয়ারি দিয়ে এমপি মোশাররফ বলেছেন, ‘মিরসরাইবাসী পানির তৃষ্ণায় মরবে, কৃষক সবজি উৎপাদন করতে পারবে না কিন্তু বিএসআরএম রড তৈরি করে ব্যবসা করবে; তা হতে দেয়া যায় না। এই কারখানায় কাঁচামাল ঢুকতে দেওয়া হবে না।’
রবিবার (৩০ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার সোনাপাহাড় অবস্থিত বিএসআরএম মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পানি সংকটে থাকা হাজার হাজার মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওই এলাকার সাংসদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের পানির কষ্টের কথা শোনা যাচ্ছে। নলকুপের পানি নেই। অনেকে গভীর নলকুপ বসাতে গিয়েও পানি পাচ্ছে না। পেলেও কিছুদিন পর দেখা যাচ্ছে, পানি শেষ! পরে জানা গেলো, বিএসআরএম শক্তিশালী মেশিন বসিয়ে তলদেশের পানি তুলে নিচ্ছে! বিএসআরএম যেন এলাকার তলদেশের পানি উত্তোলন বন্ধ রাখে, মানুষ যেন সুপেয় পানির হাহাকার থেকে মুক্তি পায়। আজকের মানববন্ধনে এই দাবিগুলোই জোরালো হয়েছে। এই আন্দোলন চলতে থাক। হোক প্রতিবাদ।’
স্থানীয়রা জানান, রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গভীর নলকূপ থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি পাম্প বসিয়ে অবৈধভাবে পানি উত্তোলনের ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে পুরো উপজেলাজুড়ে। উপজেলার ১নং করেরহাট, ২নং হিঙ্গুলী, ৩নং জোরারগঞ্জ, ৪নং ধুম, ৫নং ওসমানপুর, ৬নং ইছাখালী, ৭নং কাটাছরা, ৮নং দূর্গাপুর এবং ১১নং মঘাদিয়া ও ১৬নং সাহেরখালী থেকে অবৈধভাবে গভীর নলকূপ থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাইপ ও টিউবওয়েল দ্বারা বেশ কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে পানি উত্তোলন করে আসছে।
জানা গেছে, উত্তর চট্টগ্রামের মৎস জোন হিসেবে পরিচিত মূহুরী প্রজেক্টের মাছ ব্যাবসায়ীর বিশাল একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের প্রকাশ্যে ও আধারে পানি উত্তোলন করছে। একাধিকবার স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হলেও এর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে উপজেলার জোরারগঞ্জ, হিঙ্গুলী, ওসমানপুরে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও বারইয়ারহাটকেন্দ্রিক একাধিক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে পানি বাজারজাত করছে। তারাও ৮ ইঞ্চি পুরুত্বের একাধিক পাইপ বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে নিচ্ছে। এর ফলে আশপাশের এলাকায় অগভীর নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।



