মিরসরাই প্রতিনিধি
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বীর বাঙালির অহংকার। মুক্তিযুদ্ধের মেলা জাতির অহংকার প্রকাশের প্রতীক। বাঙালি জাতি সত্তার অস্তিত্ব রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য-চেতনা ধারণ করে। এই বিজয় মেলা বিজয়ের মহামিলনের চারণক্ষেত্র। এদেশ থেকে স্বাধীনতা বিরোধিদের ঘাঁটি স্বমুলে উৎপাঠন করতে বিজয় মেলা অধিকতর তাৎপযপূর্ণ করে তুলে।
বছর ঘুরে আবার এলো মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ৩নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের জোরারগঞ্জ আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা ২২ ডিসেম্বর (বুধবার) থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিজয় মঞ্চ থেকে এই প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসডিয়াম সদস্য, যুদ্ধকালীন ১নং সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউল করিম মাস্টার জানান, ‘দীর্ঘ ৯ বছর জোরারগঞ্জ স্কুল মাঠে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবারের মত এবারও মুক্তিযুদ্ধের দুর্লোভ ছবি প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, মুক্তিযুদ্ধের নাটক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি মঞ্চে পরিবেশিত হবে। এবারও দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ বছর করোনার সংক্রমণ অনেকটাই কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রা সচলের পাশাপাশি দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড শুরু হয়। ইতোমধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে ঘিরে স্থায়ীয় জনপ্রতিনিধি ও এখানকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণের মূল ফটকের দৃষ্টিনন্দন গেট নজর কাটবে সকলের, নৌকার আদলে তৈরি হয়েছে মঞ্চ। থাকছে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত ব্যানার পোস্টার। পুরো মাঠেই কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন সকলে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মূলত মিরসরাইবাসীর সার্বজনীন বিজয় উৎসব।
আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জোরারগঞ্জ আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি থাকবেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। ১০ দিন ব্যাপী মেলায় থাকছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, স্বাধীনতা যুদ্ধে মিরসরাই উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে থাকছে বিভিন্ন পণ্যের স্টল, খাবারের দোকান, বিনোদনের জন্য থাকছে বিভিন্ন রাইডিং।
আগামী ২২ ডিসেম্বর মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, চট্টগ্রাম ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।’
মেলায় বসবে ১১০টি স্টল। স্টল গুলাতে থাকবে খাওয়ার দোকান, খেলনার দোকান, কসমেটিকের দোকান, কাপড়ের দোকান, ফার্নিচারের দোকানসহ নানান সামগ্রী পাওয়া যাবে। এছাড়াও থাকবে পুতুল নাচ, মোটর সাইকেল খেলা, নাগর দৌলনা, নৌকার দৌলনা।



