মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ফকির আহম্মদ (৬৫)। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে কারা কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফকির আহম্মদ মিরসরাই পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড নাজিরপাড়ার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার একটি মামলায় ফকির আহম্মদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হন গত ১৮ অক্টোবর। তিনি কারাগারের মেঘনা ৩-এ কারাবন্দি ছিলেন। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে তাকে তাৎক্ষণিক চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপি নেতা ফকির আহম্মদের মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির (জাগদল) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ফকির আহম্মদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্প্রক্ত। ২০০৮ সালের পর থেকে তাকে একাধিকবার হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফকির আহম্মদ ছিলেন দক্ষ একজন সংগঠক। রাজনৈতিক সব মামলায় জামিনে থাকার পরও ফকির ভাইকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এরপর হাটহাজারী থানার মন্দির ভাংচুরের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তিনি বায়োজৈষ্ঠ প্রবীন নেতা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। আদালতে কয়েকবার জামিন চাওয়া হলেও জামিন দেয়া হয়নি।
জানা গেছে, গত ১৮অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ি থেকে ফকির আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে মিরসরাই থানা পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মন্দির ভাংচুর ও সহিংসতার মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে তাঁর আইনজীবি জামিন চাইলে বিচারক নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) বাদে মাগরিব মিরসরাই পৌরসভার নাজির পাড়ায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযাপূর্ব বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমিন, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, সাবেক আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নেতা এম.এ হালিম, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের সভাপতি আতিকুল ইসলাম লতিফী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সেলিম, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন।

ফকির আহম্মদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের পাঠানো এক শোকবর্তায় বলেন, বর্তমান নিষ্ঠুর আওয়ামী সরকারের আমলে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার কারণে জেলখানায় অহরহ মৃত্যু ঘটছে। এরই ধারাবাহিক শিকার হয়েছেন ফকির আহম্মদ।
ফকির আহম্মদেও মৃত্যুতে প্রকাশ করেছেন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আমিন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, গাজী নিজাম উদ্দিন, মঞ্জুরুল হক বাহার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সালাহ উদ্দিন সেলিম, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল আফসার জুয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ ওমর শরীফ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সরোয়ার হোসেন রুবেল সহ উত্তর জেলা বিএনপি, মিরসরাই উপজেলা, পৌরসভা, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি, উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল।

মৃত্যুকালে ফকির আহম্মদ স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।



