ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় মিরসরাইয়ে আনন্দ মিছিল
মিরসরাইয়ে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন
মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলায় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন।
এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির খান। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম ফজলুল হক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জোবাইদুর রহমান ভাসানী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আর্য্যরাজ দত্ত, মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন, ইপিআই কর্মকর্তা কবির হোসেন প্রমুখ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘এক ডোজ এইচপিভি টিকা দিন জরায়ুমুখ ক্যান্সার রুখে দিন’ প্রতিপাদ্যে টিকাদান ক্যাম্পেইন কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথমদিন ৪৮টি বিদ্যালয়ে ৩২৫১ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবর থেকে আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণী থেকে নবম শেণীর ২৩ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা ১ হাজার ১১৮ জন কিশোরী সহ মোট ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও কিশোরীকে নিবন্ধন করে এইচপিভি টিকা দেয়া হবে। বিদ্যালয় কেন্দ্রে যারা টিকা দিবে না তারা নিবন্ধন করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে টিকা নিতে পারবেন। কিশোরী ও মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মিরসরাইয়ে চালু হল ‘কৃষকের বাজার’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বঙ্গভবনের আশেপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিন-রাত আন্দোলনের পর বঙ্গভবনের সামনে আজ বুধবার সকাল থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাতে বঙ্গভবনে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পর আজ নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় বসানো হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। চার স্তরের বেষ্টনীর পাশাপাশি রাখা হয়েছে ব্যারিকেড ও তিন স্তরের কাঁটাতারের বেড়াও।
সকাল থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের তেমন কোনো জমায়েত দেখা যায়নি। তবে বিক্ষিপ্তভাবে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক এপিবিএন, বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্য। প্রস্তুত রাখা হয়েছে এপিসি, জলকামানসহ রায়ট কারও।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানায়, বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়ার ব্যাপারে কোনো চিন্তাভাবনা নেই।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল থেকে নানা সংগঠন বঙ্গভবনের সামনে জড়ো হয়।
দিনভর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলেও গতকাল রাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, টিয়ার গ্যাস, গুলি বিনিময় হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ৫২, ৫৩ ও ৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পদত্যাগ প্রসঙ্গে বলা আছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সংসদ কার্যকর থাকতে হবে। সংসদ সদস্যরাই কেবল রাষ্ট্রপতি অপসারণ বা অভিসংশন করার ক্ষমতা রাখেন। রাষ্ট্রপতি দেশের একমাত্র নাগরিক যার নিয়ন্ত্রণে তিন বাহিনী (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহী)।
সূত্র : ইউএনবি
প্রজন্ম মিরসরাই এর অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক হলেন এডভোকেট সরওয়ার
মিরসরাই প্রতিনিধি
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রজন্ম মিরসরাই এর অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক হলেন এডভোকেট সরওয়ার নিজামী।
গত মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) পরিচালক পষর্দের এক অনলাইন সভায় সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো: ইউনুচ নূরী পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয় ।
এই সময় কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এজিএম পর্যন্ত নির্বাহী পরিচালক মনোনীত হন জনাব সরওয়ার নিজামী । এতে কার্যকরী কমিটি নির্বাচনের লক্ষ্যে মো: মামুনুর রশিদ মামুনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও মো: নাজিম উদ্দিন, মো: সাঈদ হাসান অভি কে সহযোগী কমিশনার করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মো: ইউনূচ নূরী, মনজুরুল ইসলাম রায়হান, নুরুচ্ছালাম ভূঁইয়া ফোরকান, আবদুর রহিম, মামুনুর রশিদ মামুন, সরওয়ার নিজামী, নাজিম উদ্দিন, আসিবুল ইসলাম বাবু, সাঈদ হাসান অভি, আবদুল আওয়াল পারভেজ,ওমর ফারুক, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
মিরসরাইয়ে তিনদিন ধরে স্কুল শিক্ষার্থী নিখোঁজ
মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে তানভিন তোহা রুমান (১৪) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী তিনদিন নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০ ঘটিকা থেকে তার সন্ধান মিলছেন না। এ ঘটনায় নিখোঁজ ছাত্রের মা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী (৯০২) করেছেন। রুমান মিরসরাই উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের মৌলভী আবু তাহের বাড়ির ইমাম হোসেন ও কামরুন নাহানের ছেলে।
রুমানের মা কামরুন নাহার বলেন, আমার ছেলেকে পড়াশোনার জন্য তাঁর বাবা বকাঝকা করায় গত ১৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। রাতে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে তাকে না পেয়ে আশপাশ ও বিভিন্ন স্থান খোঁজ করে না পেয়ে আমার পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা করে জোরারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি। কেউ যদি আমার ছেলে সন্ধান পেয়ে থাকেন এই নম্বরে ০১৮৫৩৪০৭৫৬৪ যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরী হওয়ার পর আমরা তাঁর ছবি দিয়ে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠিয়েছি। ছেলেটিকে সন্ধানে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মিরসরাইয়ে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও কিশোরীকে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকা দেয়া হবে
মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও কিশোরীকে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের টিকা দেয়া হবে। ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রথম ডোজের এইচভিপি টিকাদান কর্মসূচি। কিশোরী ও মাতৃমৃত্যু ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মত বিনিময় সভায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন রানা বলেন, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ণরত পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ২৩ হাজার ৯৪৬ শিক্ষার্থী সহ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী ও কিশোরীকে একটি করে ডোজ দেয়া হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যালয় বহির্ভুত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি ১১০৭ জন কিশোরীকে টিকা দেয়া হবে।
এ সময় আরো বলা হয়, টিকার জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন দিয়ে নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে নিজের বিদ্যালয়ের নাম খোঁজে পাওয়া না গেলে, নিকটস্থ বিদ্যালয়ের নামে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে। টিকাকার্ড প্রিন্ট করে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির কবির খাঁন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাবরিনা লিনা, মেডিকেল অফিসার ডিজিস কন্ট্রোল ডা আর্য্যরাজ দত্ত, এলজিইডি প্রকৗশলী রনি সাহা, জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মোহাম্মদ কবির হোসেন, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, সাংবাদিক আনোয়ারুল হক নিজামী।
মিরসরাই ক্যাফে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি মালিকের
মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই ক্যাফে রেস্টুরেন্টে হামলা-ভাংচুর ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তও জড়িতদের বিচারের দাবি করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ক্যাফের মালিক এস এম সাফাত ইশতিয়াক।
এ রেস্টুরেন্টটি ২০২৩ সাল থেকে উপজেলায় সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন মানুষ আসছে এই রেস্টেুরেন্টে। খাওয়া দাওয়া পরিবেশ নিয়ে বেশ ভালো পরিচিত লাভ করেছে মিরসরাই ক্যাফ।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ নিয়ে মিরসরাই ক্যাফে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে কর্মচারীদের মারধর সহ ব্যাপক তান্ডব চালায়। এসময় রেস্টুরেন্টের চেয়ার, টেবিল, গ্লাস, খাবারের জিনিসপত্র, সিসি ক্যামেরা টুলস্ সহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি করে। একপর্যায়ে কয়েকজন আসামী রেস্টুরেন্টের ক্যাশ কাউন্টারে প্রবেশ করে ম্যানেজার মো: আবদুল্লাহকে মারধর করে জখম করে। ক্যাশিয়ার শিরিনা আক্তারকে শ্লীলতাহানি করে ও তার একটি শাওমি ব্রান্ডের মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং ক্যাশে থাকা প্রায় ৬০ হাজার টাকা লুট করে। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় রেস্টুরেন্টে থাকা কয়েকজন কাস্টমারও আহত হয়েছে। এই ঘটনায় মীরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ক্যাফের মালিক। মামলার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন উপজেলা সেনা ক্যাম্পের সদস্য ও থানা পুলিশ।

মিরসরাই ক্যাফের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নেটিজেনরা বলছেন থানার ৩০০ গজের মধ্যে এই রকুম স্বনামধন্য রেস্টেুরেন্টে হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। হামলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে রেস্টেুরেন্টটি। কখন চালু হবে সঠিক ভাবে বলতে পারেনা মালিক পক্ষ।
রেস্টেুরেন্ট নাস্তা করতে আসা নাজমুল হোসাইন নামের একজন জানান, ক্যাফের হামলার ঘটনা শুনি নাই। পরিবার নিয়ে আসলে রেস্টেুরেন্ট কতৃপক্ষ জানায় সাময়িক ভাবে বন্ধ রয়েছে। এই উপজেলার জন্য দারুন একটি প্রতিষ্ঠান মিরসরাই ক্যাফ। হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান তিনি।
মিরসরাই ক্যাফের স্বত্বাধিকারী এসএম সাফাত ইশতিয়াক বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও প্রাকৃতিক ঝরনার কারণে দেশবাসী মিরসরাই উপজেলাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়। মিরসরাই ক্যাফেতে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা অত্যন্ত ভয়ানক এবং কোনভাবেই উপেক্ষা করা যায়না। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তও জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আসামীরা যদি বিচারের আওতায় না আসে তাহলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটতে থাকবে। সংস্কারকাজ শেষে শীঘ্রই মিরসরাই ক্যাফে পুনরায় চালু হবে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামের
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) এসব দাবি জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রাপ্তি রাষ্ট্রীয় ভাষণে দেশবাসীর সামনে স্বীকার করেছেন। অথচ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তা অস্বীকার করে তিনি স্ববিরোধিতা এবং একই সঙ্গে শপথ ভঙ্গ করেছেন। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিশ্বস্ত এই রাষ্ট্রপতিকে জুলাই বিপ্লবের শত্রু মনে করি এবং তার দ্রুত অপসারণ দাবি করছি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে যারাই গাদ্দারি করবে, তারাই গণশত্রু হিসেবে প্রত্যাখ্যাত হবে।
হেফাজত নেতারা বিবৃতিতে বলেন, ফ্যাসিস্টদের বানানো জাতীয় দিবস ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট বাতিল করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। রক্তাক্ত জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।
তারা আরও বলেন, বিডিআর হত্যা, ৫ মে শাপলা ও ২০২১ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগসহ তার অঙ্গ সংঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের এখনো নিষিদ্ধ না করায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ একের পর এক প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে আরও সংহত করে সফল করতে হলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই পড়লো ১৬ উইকেট
ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুর টেস্টে আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে খেলা বন্ধ হলো। তার আগে বোলারদের রাজ করার এক দিন কাটলো। টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দলের মিলিয়ে পড়েছে ১৬ উইকেট।
বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে তারাও খুব স্বস্তিতে নেই। প্রথম দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১০৪ রান নিয়ে। ৩৪ রানের লিড নিয়েছে প্রোটিয়ারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পতন হওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে ৫টিই নিয়েছেন তাইজুল। ৪৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১৩ বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তাইজুল। একইসঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেট শিকারীও হয়েছেন তাইজুল। পেছনে ফেলেন সাকিব আল হাসানকে।
২০০ উইকেট শিকার করতে সাকিবের লেগেছিল ৫৪ টেস্ট। তাইজুল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৮তম টেস্টে এসেই এই মাইলফলকে পৌঁছালেন।
বাংলাদেশকে অল্প রানে গুটিয়ে ব্যাট করতে নামা সফরকারীদের শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রোটিয়া ওপেনার এইডেন মার্করামকে বোল্ড করেন ডানহাতি টাইগার পেসার। হাসানের ভেতরে ঢোকা বল ডানহাতি ব্যাটার মার্করামের (৭ বলে ৬) ব্যাটের কোনা স্পর্শ করে স্টাম্প ভেঙে দেয়। দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দ্বিতীয় উইকেটে পিচে সেট হয়ে ব্যাটিং করছিলেন টনি ডি জর্জি ও ত্রিস্টান স্টাবস। ৪১ রানের জুটিও করে ফেলেছিলেন তারা। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়া বল ডানহাতি স্টাবসের ব্যাটের কাণায় লেগে স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে জমা হয়। ২৭ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ব্যাটার।
তৃতীয় সেশনের শুরুতে আরও একটি শিকার ধরলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি ব্যাটার ডেভিড বেডিংহামকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৫ বলে ১১ রান করেন বেডিংহাম। ৭২ রানে তৃতীয় হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংসের ২৮তম ওভারে একে জোড়া শিকার করেন তাইজুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে পিচে থিতু হয়ে থাকা টনি ডি জর্জিকে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানান তিনি। ৭০ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ওপেনার।
ওই ওভারের শেষ বলে নতুন ব্যাটার ম্যাথিউ ব্রিটজকে (৪ বলে ০) বোল্ড করে দেন তাইজুল। দলীয় ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর সেট ব্যাটার রায়ান রিকেলটনকে আউট করে প্রোটিয়াদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল। উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দেওয়ার আগে রিকেলটন করেন ৪৯ বলে ২৭।
এর আগে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই সেশনও টেকেনি বাংলাদেশ। ৪১.১ ওভার ব্যাট করে ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের তোপে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কোনো ব্যাটার।
দিনের শুরুতেই ব্যাটিং ব্যর্থতার আভাস দেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৪ বল খেলে ০ রানে সাজঘরে ফেরত গেছেন এই ব্যাটার। প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুলদারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি সাদমান। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এক ওভার বিরতি দিয়ে আউট যান মুমিনুল হকও। ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন বাহাতি ব্যাটার। মুলদারের বলে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
ষষ্ঠ ওভারে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৭ বলে ৭)। মুলদারের বলে শর্ট মিড অফে কেশব মহারাজের তালুবন্দি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অর্থাৎ প্রথম ৩টি উইকেটই নেন মুলদার। ২১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের।
এরপর বাংলাদেশকে টেনে তুলতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু পারলেন না। দক্ষিণ আফ্রিাকার পেসার কাগিসো রাবাদার বল যেন বুঝে উঠতে পারছেন না অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষমেশ উইকেট দিয়ে আসলেন তিনিও। প্রোটিয়া ডানহাতি পেসার উপড়ে ফেলেন ডানহাতি মুশফিকের দুটি স্টাম্প। ২২ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন মুশফিক।
৪০ রানে ছিল না ৪ উইকেট। চরম ব্যাটিং বিপর্যযে পড়া বাংলাদেশকে সামান্য স্বস্তিও এনে দিতে পারলেন না লিটন দাস। দলীয় ৫ রান যোগ না হতেই আউট যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ১৩ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরত যান ডানহাতি লিটন। কাগিসো রাবাদার বলে স্লিপে ত্রিস্টান স্টাবসের হাতে ক্যাচ হন তিনি।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪ বলে ১৩)। দলীয় ৬০ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ারের সরাসরি আউটের ঘোষণার পর রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটার।
পিচে থিতু হয়ে থেকেও ভালো ইনিংস খেলতে পারেননি ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ৯৭ বল খেলে মাত্র ৩০ রান করতে পারেন তিনি। প্রোটিয়া স্পিনার ডেন পিডটের বলে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটার।
অভিষেক ম্যাচ রাঙাতে পারেননি জাকের আলী অনিক। ১৫ বলে মাত্র ২ রান করে মহারাজের বলে স্টাম্পড হন ডানহাতি ব্যাটার। স্কোরকার্ড ৭৬ রানের স্থির থাকতেই ২টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাইম হাসান ৮ আর তাইজুল ইসলাম করেন ১৬ রান। ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসান মাহমুদ।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা, উইয়ান মুলদার ও কেশব মহারাজ।

